ক্যাটাগরি: মাৎস্য চাষ

মাছ ও চিংড়ি চাষে প্রোবায়োটিক ব্যবহার: পরিচিতি ও প্রয়োগপদ্ধতি

প্রোবায়োটিকের কাজ

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে মাছ ও চিংড়ি দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসাবে স্বীকৃত। ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৩৪.১০ লক্ষ মে.টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। একই অর্থবছরে দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে ১,৮৫,২৭৪ মে.টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়েছে যার মধ্যে ১,৪০,২৬১ মে.টন চাষকৃত চিংড়ি। যদিও খুলনা অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের অধিকাংশ ক্ষেত্রে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে গলদার চাষ হচ্ছে যার হেক্টর প্রতি উৎপাদন মাত্র ৩০০-৬০০ কেজি। তবুও এ অর্থবছরে কেবল ৫০,৩৩৩ মে.টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করেই ৩,৩৭৬.২ কোটি টাকা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা আছে। গুণগতমান ও আকারভেদে দেশেই প্রতি কেজি চিংড়ি ৪০০-১,২০০ টাকায় বিক্রয় করা যায়। অর্থনৈতিক ভাবে সম্ভাবনাময় এই শিল্প আজ নানা কারণে ঝুঁকির মুখে। বিগত কয়েক বছর যাবত বাগদা চিংড়ির ক্ষেত্রে চাষ পর্যায়ে ও গলদা চিংড়ির ক্ষেত্রে হ্যাচারি পর্যায়ে চিংড়ি রোগাক্রান্ত হওয়ায় জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ রপ্তানি খাতটি এখন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন। চিংড়ির রোগবালাই দমনে নানাবিধ এন্টিবায়োটিকের (জীবাণুনাশক) যথেচ্ছ ব্যবহার এ শিল্পকে ক্রমশ: ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারের ফলে ক্ষতিকর জীবাণুসমূহের মধ্যে ঔষধ-প্রতিরোধী ক্ষমতা (Drug resistance) বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তেমন কোন টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি (FMRT) ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. খন্দকার আনিছুল হকের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক সাম্প্রতিক কয়েকটি ধারাবাহিক গবেষণা লব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, গলদা চিংড়ির পরিবেশ বান্ধব চাষ, স্থায়ীত্বশীল উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান রোগের ঝুঁকি কমাতে উপকারী বন্ধু অণুজীব বা প্রোবায়োটিকের ব্যবহার টেকসই সুরক্ষা দিতে পারে। আমাদের দেশে মাছ ও চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিকের ব্যবহার নতুন। তাই প্রথমেই প্রোবায়োটিকের পরিচিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও পরে মাছ ও চিংড়ি চাষে প্রোবায়োটিক ব্যবহার বিষয়ে আলোকপাত করা হল।

প্রোবায়োটিক কী?
যেসব জীবিত অণুজীব পোষকের (মাছ, চিংড়ি, মানুষ ইত্যাদি যে কোন প্রাণী) দেহে ও পরিবেশে উপস্থিত থেকে পোষককে ক্ষতিকর রোগ জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয় ও পোষকের দৈহিক বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে সেসব উপকারী অণুজীবকেই প্রোবায়োটিক নামে অভিহিত করা হয়। সহজ কথায় প্রোবায়োটিক হচ্ছে উপকারী বন্ধু অণুজীব (প্রধানত:ব্যাকটেরিয়া জাতীয়) যাদের উপস্থিতিতে ক্ষতিকর অণুজীব দমন করা যায় এবং এদের ক্ষতি করার ক্ষমতাও কমানো যায়। ফলে চাষযোগ্য প্রজাতিকে বিভিন্ন রোগব্যাধি হতে বাঁচিয়ে পরিবেশ বান্ধব চাষ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন এবং সার্বিক উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়। কেবল মাছে বা চিংড়িতে নয় বরং গৃহপালিত প্রাণী এমনকি মানুষকেও নির্ধারিত প্রোবায়োটিক খাওয়ানো হলে তার পেটের স্বাস্থ্য ঠিক থাকে, পেটের ভেতরের ক্ষতিকর অণুজীবের সংখ্যা কমে যায়, উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং ক্ষতিকর অণুজীবের ক্ষতি করার ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যাওয়ায় সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যায়।

কেন প্রোবায়োটিক ব্যবহার করব?
জলজ পরিবেশ স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন প্রকার উপকারী ও অপকারী অণুজীবের বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত। এ পরিবেশে অপকারী অণুজীবগুলির আক্রমণে মাছ ও চিংড়ি রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এসব রোগবালাই সৃষ্টিকারী অপকারী অণুজীবসমূহকে নিয়ন্ত্রণে যুগ যুগ ধরে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু মেরে ফেলা গেলেও একইসাথে জীবদেহে ও খামারের আশপাশের পরিবেশে বিদ্যমান নানান উপকারী অণুজীবেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এন্টিবায়োটিকের অপরিমিত ও অবাধ প্রয়োগের ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা (Resistance power) তৈরি হয়। ফলে একসময় এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ক্ষতিকর জীবাণু আর দমন করা যায় না। তাছাড়া এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে তাৎক্ষণিক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মানবদেহে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এজন্যই রোগ দমনে এন্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসাবে প্রোবায়োটিকের ব্যবহার অধিক যৌক্তিক এবং স্থায়ীত্বশীল বলে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রোবায়োটিক কী কী উপকার করে?

প্রোবায়োটিক জীবদেহে ও পরিবেশে উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আর এজন্যই মাছ ও চিংড়িচাষে প্রোবায়োটিকের পরিমিত ব্যবহার প্রয়োজন। যেমন-

  • চাষকৃত প্রজাতির অন্ত্রে উপকারী অণুজীবের বংশবিস্তার করে,
  • ক্ষতিকর জীবাণুর টিকে থাকাও সংক্রমণ প্রতিরোধ করে,
  • ক্ষতিকর জীবাণুরোধী বস্তু (ব্যাকটেরিওসিন ও জৈব এসিড) নিঃসৃত করে ও বিপাকীয় উৎসেচক (digestive enzymes) উৎপন্ন করে,
  • পরিপাক ক্রিয়া বা হজমে সহায়তা করে,
  • বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন উৎপাদনে সহায়তা করে,
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,
  • ক্ষতিকর জীবাণুর অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধে জৈবিক নিয়ন্ত্রক এজেন্ট হিসাবে কাজ করে,
  • পোষকদেহের পীড়ন জনিত ক্ষতিকর অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে,
  • পরিবেশের মাটি ও পানির উন্নয়ন ঘটায়,
  • কতিপয় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান নিষ্ক্রিয় করে, ইত্যাদি।

 

প্রোবায়োটিক কিভাবে কাজ করে?

জীবদেহে প্রোবায়োটিক ঠিক কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বিগত কয়েক দশকের গবেষকগণ তাদের গবেষণার ভিত্তিতে নানা তথ্য দিয়েছেন। প্রোবায়োটিকের কাজের ক্ষেত্রে বর্ণিত উপায় ও পদ্ধতিগুলি খুব সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হল

  • অন্ত্রের অভ্যন্তরভাগে উপকারী প্রোবায়োটিক অণুজীব বংশবিস্তার করে অন্ত্র বরাবর অবস্থান গ্রহণ করায় ক্ষতিকর জীবাণুর আক্রমণ ভাগ অন্ত্রে সংযুক্ত হতে পারে না ও নিষ্ক্রান্ত হতে বাধ্য হয়। এটি ক্ষতিকর জীবাণুসমূহের বাসস্থানগত প্রতিযোগিতামূলক দমন বা দূরীকরণ (competitive exclusion of pathogenic bacteria) পদ্ধতি হিসাবে বেশ আলোচিত।
  • পর্যাপ্ত সংখ্যক উপকারী প্রোবায়োটিক অণুজীব জীবদেহ ও পরিবেশে থাকলে তারা স্বভাবতই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানসমূহ প্রাপ্তির প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হয়ে থাকে। পুষ্টি উপাদানসমূহ প্রাপ্তিতে এহেন প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থানে ক্ষতিকর অণুজীবের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও তারা টিকে থাকতে পারে না।
    কিছু কিছু প্রোবায়োটিক উদ্বায়ী ফ্যাটি এসিড ও ক্ষতিকর জীবাণুরোধী বস্তু (antibacterial compounds) তৈরি করায় ক্ষতিকর অণুজীবের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও তারা দূরীভূত হয়।
  • কিছু প্রোবায়োটিক অণুজীব বিপাকীয় উৎসেচক (যেমন- প্রোটিয়েজ, লাইপেজ, এমাইলেজ ইত্যাদি) নিঃসরণ ঘটিয়ে পোষকের বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। বিপাকের মাধ্যমে উৎপাদিত দরকারি এমাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ইত্যাদি জৈব পুষ্টি উপাদান পোষক কর্তৃক সরাসরি পরিশোধিত হওয়ায় পোষকের বৃদ্ধি তরান্বিত হয়।
  • মাটি ও পানির গুণগত মান উন্নয়ন, পিএইচ নিয়ন্ত্রণ, তলার বর্জ্য শোধন, ক্ষতিকর এমোনিয়া ও নাইট্রাইট দূর করা ইত্যাদির জন্য প্রোবায়োটিক হিসাবে বেসিলাস (Bacillus sp.) গণের ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার বেশ প্রসিদ্ধ। এর ফলে মাছ বা চিংড়ি জাতীয় পোষকের বাঁচার হার, দৈহিক বৃদ্ধি হার বাড়ে ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়।
  • কিছু কিছু ফটোট্রপিক ব্যাকটেরিয়া সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। আবার কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়ার শৈবালনাশক প্রভাবকে (algicidal effect) কাজে লাগিয়ে অত্যধিক মাত্রার অনাকাঙ্ক্ষিত শৈবাল (বিশেষত: লাল শৈবাল স্তর) নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • কিছু কিছু প্রোবায়োটিক খাদ্যের সাথে জীবদেহে প্রবেশ করালে তা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে (immune system) উদ্দীপ্ত করে; প্রতিরক্ষামূলক শ্বেত রক্ত কণিকার (leucocytes) ফ্যাগোসাইটিক ক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়; ফলে জীবাণুনাশ ও রোগব্যাধি প্রতিরোধ সহজ হয়।
  • তাছাড়াও ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রোবায়োটিকের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা অদ্যাবধি চলমান আছে।

 

প্রোবায়োটিক কেন নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয়?
বলা হয়ে থাকে রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করা অপেক্ষা রোগ প্রতিরোধ সর্বদাই উত্তম। মাছ ও চিংড়ির অন্ত্রে উপকারী এবং অপকারী এই উভয় প্রকার অণুজীব বিদ্যমান। সুযোগসন্ধানী ক্ষতিকর অপকারী অণুজীবগুলো সুযোগ পেলেই মাছ ও চিংড়িতে রোগ তৈরি করে, ফলে দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অপরদিকে প্রোবায়োটিক জীবদেহের বিভিন্ন জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মাছ ও চিংড়ির অন্ত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ উপকারী অণুজীব বা প্রোবায়োটিকের সংখ্যা বজায় রাখা খুবই জরুরি। কিন্তু অনেক সময় নানা কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক কারণে যেমন- অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ বা এর বাহ্যিক ব্যবহার, নানাবিধ পীড়ন ও ধকল, বাসস্থান ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ইত্যাদির কারণে উপকারী অণুজীবের সংখ্যা কমে যেতে পারে।পরিবেশে উপকারী এবং অপকারী অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলেই পরিবেশ দূষিত হয়, উপকারী অণুজীবের বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ বিনষ্ট হয়, চাষযোগ্য প্রজাতিতে রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং ক্রমশ: আরও নানা সমস্যা তৈরি হতে থাকে। তাই কেবল দূষিত পরিবেশে বা রোগাক্রান্ত অবস্থার জন্য নয় বরং সুস্থ ও স্বাভাবিক সময়কালেও মাছ ও চিংড়ি চাষে নিয়মিত প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত।

 

প্রোবায়োটিক নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়াবলী
মাছ বা চিংড়ি চাষে ব্যবহারের জন্য বাজারে নানা ধরণের দেশি ও বিদেশি প্রোবায়োটিক পাওয়া যায়। এসব প্রোবায়োটিকের ব্যবহার পদ্ধতি ও প্রয়োগ মাত্রা নির্দিষ্ট করা আছে। মনে রাখা প্রয়োজন, চাষকৃত প্রজাতিতে ও চাষ পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবেই উপকারী ও অপকারী উভয়প্রকার অণুজীব থাকে। স্থানীয় পরিবেশে ও সুস্থ জীবদেহে প্রাপ্ত স্বাভাবিকভাবে উপকার প্রদানকারী প্রোবায়োটিক যেকোনো বিদেশি প্রোবায়োটিক অপেক্ষা শ্রেয়। তাই সর্বাগ্রে সুস্থ জীবদেহে ও স্থানীয় পরিবেশে প্রাপ্ত মানসম্পন্ন প্রোবায়োটিক ব্যবহার করাই উত্তম। বাজারে প্রাপ্ত সব প্রোবায়োটিক অণুজীব একই রকম কাজ করে না। বিভিন্ন ব্রান্ডের প্রোবায়োটিকের ভিতরে বিভিন্ন ধরণের অণুজীব থাকে। আর একেক অণুজীব একেক রকমের কাজ করে। তাই প্রোবায়োটিক ক্রয় ও প্রয়োগ করার সময় দেখতে হবে তার ভিতরে কোন কোন ধরণের উপকারী অণুজীব আছে, তাদের উৎপাদনকালে মোড়কে লিপিবদ্ধ ঘনত্বে তারা জীবিত অবস্থায় আছে কি না এবং অন্য কোন বহিরাগত ক্ষতিকর জীবাণু আছে কি না। সাধারণত: হ্যাচারি বা নার্সারি পর্যায়ের মড়ক রোধ,অপকারী অণুজীব দমন পূর্বক পুকুর প্রস্তুতি, খাদ্য পরিপাক ও শোষণ সহজীকরণ, পানি ও মাটির গুনাগুণ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজের জন্য বিভিন্ন ব্রান্ডের নানা প্রকার প্রোবায়োটিক বিদ্যমান। আরও নতুন নতুন নামে দেশি-বিদেশি প্রোবায়োটিক প্রতিনিয়ত বাজারে আসছে। মানসম্পন্ন উৎপাদক কোম্পানিগুলি বাজারজাতকৃত প্রোবায়োটিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োগ মাত্রা ও নির্দেশনা মোড়ক, জার বা বোতলের গায়ে লিখে দেন। নির্দেশিত প্রয়োগ মাত্রা ও পদ্ধতিতে প্রোবায়োটিক প্রয়োগ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা নির্দেশিত প্রয়োগ মাত্রার কম ব্যবহার করা হলে ও প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক না হলে প্রোবায়োটিক ক্ষতিকর জীবাণু দমনে সক্ষম নাও হতে পারে। প্রোবায়োটিক নির্বাচন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিকটস্থ মৎস্য কর্মকর্তা বা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ গবেষকের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। তবে কোনক্রমেই কেবল বিক্রেতার পরামর্শে প্রোবায়োটিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। কারণ কোন কোন বিক্রেতা তার নিকট থাকা প্রোবায়োটিক অণুজীব ও তার কার্যকারিতার মেয়াদ সম্বন্ধে না জেনে কেবল বিক্রয় ও লাভের স্বার্থে চাষিকে অযাচিত ব্যয় বাড়াতে প্রলুব্ধ করতে পারে।

মাছ ও চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রাপ্ত কয়েকটি প্রোবায়োটিকের প্রয়োগ মাত্রা ও ব্যবহার:

প্রোবায়োটিকের বাণিজ্যিক নাম ও উৎপাদক কোম্পানি সক্রিয় প্রজাতিসমূহ ও মোট অণুজীব ঘনত্ব  নির্দেশিত প্রয়োগ মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্দেশ্য
ইকোমেরিন (Eco marine)অর্গানিক Bacillus subtilisBacillus pumilis

B. amylolichenifacions

Bacillus megaterium

ঘনত্ব: ২.০১×১০ সিএফইউ/গ্রাম

চাষকালে ৫-৬টি ট্যাবলেট/একর, ১ম মাস থেকে মাছ আহরণ পর্যন্ত প্রতি ০৭ দিন পর পর রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ, তলার মাটি শোধন, এমোনিয়া ও নাইট্রাইট দূর করা, ক্ষতিকর শৈবালের বংশবিস্তার রোধ।
ইকোম্যাক্স (Ecomax)অর্গানিক Bacillus subtilisBacillus pumilis

B. amylolichenifacions

Bacillus megaterium

ঘনত্ব: ১.২৮×১০ সিএফইউ/গ্রাম

 

০৩টি ট্যাবলেট প্রতি ১০টন পানিতে। প্রতিদিন, পানি পরিবর্তনের পর। তবে চিংড়ির জইয়া (১-৩) ও মাইসিস (১-৩) পর্যায়ে যথাক্রমে ০১টি ও ০২টি ট্যাবলেট প্রতি ১০টন পানিতে। প্রতিদিন, পানি পরিবর্তনের পর। হ্যাচারিতে ভিব্রিও (Vibrio) ও লুমিনিসেন্ট ব্যাকটেরিয়ার (LB) আক্রমণ প্রতিরোধ, তলার মাটি শোধন, এমোনিয়া ও নাইট্রাইট দ্রুত দূর করা, পিএইচ ও এ্যালকালিনিটির মান স্থির রেখে পানির গুনগত মান উন্নয়ন।
এ্যাকোয়া গোল্ড (Aqua Gold)অর্গানিক Rhodopseudomonus sp.নামক ফটোট্রপিক ব্যাকটেরিয়া

ঘনত্ব: ১.০×১০ সিএফইউ/মি.লি. 

হ্যাচারিতে জইয়া ও মাইসিস পর্যায়ে ১৫০-২০০মি.লি. এবং পিএল পর্যায়ে ১০০মি.লি. প্রতি ১০টন পানিতেচিংড়ি চাষে একর প্রতি ১.৫-২লি. হারে ৭দিন পর্যন্ত, কার্প চাষে একর প্রতি   ২-২.৫লি. হারে ৭দিন পর্যন্ত।প্রয়োগকালে প্রতি লিটার এ্যাকোয়া গোল্ড ২০লিটার পানির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিতে হয়। পুকুরে দ্রুত প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন, দ্রুত ওজন ও উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, তলদেশের কালো মাটি চাষ উপযোগী করা।
এ্যাকোয়া ম্যাজিক (Aqua Magic)NUSAGRI cv, Indonesia

(ফিসটেক কর্তৃক বাজারজাতকৃত)

Azobacter chorococcumBacillus cereus

Bacillus megaterium

Bacillus subtilis

Candida utilis

Lactobacillus fermentus

Lactobacillus planterum

Rhodotorulla sp.

Saccharomyces cerivisiae

Saccharomyces pombae

ঘনত্ব: ০১×১০১১ সিএফইউ/কেজি

 

এ্যাকোয়াম্যাজিক ব্যবহারের পূর্বে সক্রিয় করতে হয়। এজন্য ০৫কেজি এ্যাকোয়াম্যাজিক ১০০গ্রাম চিনি, ২৫০ গ্রাম মিহি কুড়া ও ১০লিটার পানি একসাথে মিশিয়ে কমপক্ষে ০৫ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে ২/৩ বার নেড়ে দিতে হবে। পুকুর প্রস্তুতকালে প্রথম দিন একরে ৮-১০কেজি সক্রিয় এ্যাকোয়াম্যাজিক সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। পরদিন একর প্রতি ০৫কেজি ইউরিয়া ও ০৫ কেজি টিএসপি দিতে হবে।০১ সপ্তাহের মধ্যে পুকুর পোনা ছাড়ার উপযোগী হবে।চাষকালে মাছ বা চিংড়ির পীড়ন বা অতিবৃষ্টিতে প্রতি মাসে এক বার ০৫-০৬কেজি এ্যাকোয়াম্যাজিক প্রয়োগ করা যায়। এমোনিয়া, নাইট্রাইট, সালফাইড প্রভৃতি ক্ষতিকর গ্যাস আবদ্ধ করা এবং তলার বর্জ্যের পচন ও জারণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে পানির গুনাগুণ উন্নত করা। তলার রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ, রুচি বৃদ্ধি ও হজম ত্বরান্বিত করা।
পন্ড ডি টক্স (PondDtox)Novozymes, USA

(ফিসটেক কর্তৃক বাজারজাতকৃত)

Paracoccus pantotrophusঘনত্ব: ৩×১০১১ সিএফইউ/গ্রাম পুকুর প্রস্তুতকালে একরে ৬০০-৮০০গ্রাম হারে মাটি ভেজা থাকা অবস্থায় ছিটিয়ে দিতে হয়।চাষকালে একর প্রতি ৩০০-৪০০গ্রাম হারে ৭-১০দিন পর পর। পুকুরের তলার বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড ধ্বংস করা, তলার পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখা।
পন্ড প্লাস (PondPlus)Novozymes, USA

(ফিসটেক কর্তৃক বাজারজাতকৃত)

Bacillus subtilis B. amylolichenifacions

Bacillus pumilis

Bacillus licheniformis

Bacillus megaterium

ঘনত্ব: ১×১০১১ সিএফইউ/গ্রাম

 

পুকুর প্রস্তুতকালে একরে ৩০০-৪০০গ্রাম হারে মাটি ভেজা থাকা অবস্থায় ছিটিয়ে দিতে হয়।চাষকালে একর প্রতি ২০০গ্রাম হারে নিয়মিত বিরতিতে ৭-১০দিন পর পর। পুকুরের তলার দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখা। রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ, তলার মাটি ও পানির গুনগত মান উন্নয়ন, ক্ষতিকর এমোনিয়া দূর করা ইত্যাদি।
এ্যাকুয়া ফটো (Aqua Photo)এসিআই এনিমেল হেল্থ Bacillus subtilis Rhodopseudomonus sp. চাষকালে একর প্রতি   ৫০-৭০ মি.লি. হারে (প্রথম ৭দিন পর্যন্ত, পরে প্রয়োজন মত) অনাকাঙ্ক্ষিত গ্যাস দূর করা, তলার পরিবেশ উন্নয়ন সাধন, প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
বায়োজাইম (Bio-zyme)বায়োফার্মাকেমি কোং লি., ভিয়েতনাম

(Bio Pharmachemie Co. Ltd., Vietnam)

(ফিসটেক কর্তৃক বাজারজাতকৃত)

Bacillus subtilis Saccharomyces cerivisiae  প্রতি ১০০কেজি খাবারের মধ্যে ২৫-৫০ গ্রাম বায়োজাইম উত্তমরূপে মিশিয়ে নিয়ে খাওয়াতে হবে। হজম ত্বরান্বিত করা, খাদ্যে রুচি বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ করা ও পুকুরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
গোল্ডেন ব্যাক (Golden Bac)ইউনিভেট (Univet) Yeast

Bacillus subtilis

Lactobacillus sp.

একর প্রতি ১.৫০-২.০০ কেজি হারে বর্জ্য শোধন, তলার রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ, রুচি বৃদ্ধি, হজম ত্বরান্বিত   করা, খাদ্য রূপান্তর হার (FCR) কমিয়ে দিয়ে খাদ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
পিএইচ ফিক্সার (pH fixer)সিপি (Cheron Phokphand)

এ্যাকুয়াকালচার লি:, থাইল্যান্ড

Bacillus sp. একর প্রতি ১.০০-২.০০ কেজি হারে পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করা ও পানির গুণগতমান বাড়ানো।
প্রোকন পিএস (Procon-PS)র‌্যালস এ্যাগ্রো লি:

(Rals Agro Ltd.)

Bacillus sp.Rhodobacter এবং

Rhodococcus

হেক্টর প্রতি ৫লিটার (১মিটার গভীরতা) অনাকাঙ্ক্ষিত গ্যাস দূর করা, তলার পরিবেশ উন্নয়ন সাধন, রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ করা।
সুপার বায়োটিক (Super Biotic)সিপি (Cheron Phokphand)

এ্যাকুয়াকালচার লি:, থাইল্যান্ড

Bacillus sp. একর প্রতি ১.০০-২.০০ কেজি হারে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ করা।
জাইমেটিন (Zymetin)সিপি (Cheron Phokphand)

এ্যাকুয়াকালচার লি:, থাইল্যান্ড

Streptococcus faecalisBacillus mesentericus

Clostridium butyricum

৫ গ্রাম হারে জাইমেটিন প্রোবায়োটিক ২০ গ্রাম মিউটাজেন বাইন্ডার প্রিবায়োটিকের সাথে মিশিয়ে প্রতি কেজি খাবারের সাথে প্রতি সপ্তাহের প্রথম ০৪ দিন প্রয়োগ করতে হয়। খাদ্যের সাথে ব্যবহারযোগ্য প্রোবায়োটিক, চাষকৃত প্রজাতির দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। রুচি বৃদ্ধি ও হজম ত্বরান্বিত করা, রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ ।
সুপার পিএস (Super PS)সিপি (Cheron Phokphand)

এ্যাকুয়াকালচার লি:, থাইল্যান্ড

Rhodobacter sp.Rhodococcus sp. ১৫ লিটার সুপার পিএস প্রোবায়োটিক ৭.৫ কেজি বালির সাথে মিশিয়ে প্রতি হেক্টরে প্রতি সপ্তাহের প্রথম দিন প্রয়োগ করতে হয়। মাটিতে ব্যবহারযোগ্য প্রোবায়োটিক, পুকুরের তলার পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখা। রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু প্রতিরোধ, তলার মাটি ও পানির গুনগত মান উন্নয়ন, ক্ষতিকর এমোনিয়া দূর করা ইত্যাদি। ।

 

প্রোবায়োটিকস ব্যবহারে সতর্কতা:

  • প্রোবায়োটিকস ব্যবহার কালে ক্রয়কৃত পণ্যে জীবিত প্রোবায়োটিকসের পরিমাণ যাচাই করা ও মেয়াদ আছে কি না দেখা আবশ্যক।
  • ব্যবহারকালে এ্যাপ্রোন, গ্লোভস ইত্যাদিসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবলম্বন করাও জরুরী।
  • প্রোবায়োটিকস ব্যবহারের পরেও পরিবেশে অতিরিক্ত ক্ষতিকর অণুজীবের সংক্রমণ রোধ করতে সংক্রমিত ব্যক্তি বা সব ধরণের বস্তুসামগ্রী হতে নিরাপত্তা বিধান করা উচিত।
  • প্রোবায়োটিকস রোগ হওয়ার পূর্বেই রোগ প্রতিরোধকারী হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। কেবল রোগ হয়ে গেলে প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার ভাল ফলদায়ক নাও হতে পারে।
  • সাধারণত স্থির পানিতে বা কম পরিচলনশীল পানিতে প্রোবায়োটিকস ব্যবহার করলে তা অধিক কার্যকর হয়ে থাকে। তাছাড়া পানি শোধন করার পর অন্য কোন ক্ষতিকর বা প্রতিযোগী অণুজীব বংশবিস্তারের পূর্বেই প্রোবায়োটিকস ব্যবহার করা হলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
  • প্রোবায়োটিকস ব্যবহার কালে এমন কোন এন্টিবায়োটিক বা রাসায়নিক ব্যবহার করা উচিত নয় যা প্রোবায়োটিকসের মৃত্যুর কারণ হয় বা তাঁদের বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ বিনষ্ট করে।

 

প্রোবায়োটিকস ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা:

সাধারণত খাদ্য সামগ্রীতে ব্যবহৃত প্রোবায়োটিকস অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পৃথক করা হয় এবং বার বার পরীক্ষার পরই ব্যবহারের জন্য বাজারজাতকরণ করা হয় বলে তার নিরাপত্তা নিয়ে আশংকা একেবারেই কম। তথাপিও ব্যবহার ও প্রয়োগজনিত ত্রুটি, অসাবধানতা এবং মানুষের অর্জিত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার দরুন একে একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না। বর্তমানে ঝুঁকির তেমন কোন জোরালো প্রমাণ না থাকলেও তাত্ত্বিকভাবেও দীর্ঘমেয়াদে কিছু কিছু ঝুঁকির আশংকা করা হয় যেমন- শারীরবৃত্তিয় তন্ত্রের সংক্রমণ (systemic infections), ক্ষতিকর বিপাকীয় কার্যাবলী (deleterious metabolic activities), রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি (excessive immune stimulation) এবং কৌলিতাত্বিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন (gene transfer) ইত্যাদি ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার বাগদা চিংড়ি (Penaeus monodon) চাষে উপকারী প্রোবায়োটিকস ব্যাকটেরিয়া Bacillus subtilis ব্যবহার করেও ব্যাকটেরিয়াল হোয়াইট স্পট সিনড্রোম (BWSS) দেখা গেছে যেখানে দাগ ও লক্ষণ প্রায় হোয়াইট স্পট ভাইরাল সিনড্রোমের (WSS) মত হলেও তা WSS-এর মত ভয়াবহ ক্ষতিকর নয়। বরং BWSS-এ আক্রান্ত হলেও খোলস পাল্টানোর গরে আর দাগ তেমন থাকে না, মৃত্যুহারও অনেক কম। কিন্তু চাষিরা এবং গবেষকগণ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা ছাড়া সাধারণত BWSS ও WSS এর সংক্রমণজনিত পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেন না।

কোনো কোনো গবেষক এমন আশংকা করেছেন যে, প্রোবায়োটিকস ব্যবহার করা খাদ্যপণ্য অর্ধসিদ্ধ বা অসিদ্ধ অবস্থায় খাওয়া হলে প্রোবায়োটিকসের অবশেষ ভোক্তার শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু পূর্ণসিদ্ধ পণ্য নিরাপদ। কোনো কোনো ভোক্তা নির্দিষ্ট কিছু অণুজীবের প্রতি অতি মাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে থাকেন যার ফলে অর্ধসিদ্ধ বা কাঁচা পণ্য ভক্ষণে তারা সামান্য মাত্রায় নিরাময়যোগ্য সংক্রমণে সংক্রমিত হতে পারেন।

কোন কোন প্রজাতির প্রোবায়োটিকস কোন ধরণের উপকার সাধন করে তাঁর বিচ্ছিন্ন গবেষণা বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে থাকলেও এদের একীভূত পূর্ণাঙ্গ তালিকা কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহ (যেমন FAO, WHO) কর্তৃক অদ্যাবধি নিরাপদ প্রোবায়োটিকস ব্যবহার বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ কোন নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি যা প্রোবায়োটিকস ব্যবহারের একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

 

আগামী পর্বে থাকবে প্রোবায়োটিক ব্যবহার করে মাছ ও চিংড়ি চাষের বিস্তারিত তথ্যাদি (অর্থনৈতিক বিশ্লেষণসহ)

 

Visitors' Opinion

লেখক

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা করছেন। যোগাযোগ: akazad_dof@yahoo.com । বিস্তারিত

Leave a Reply