ক্যাটাগরি: অঙ্গসংস্থানবিদ্যা | কবিতা | নানাবিধ | মাৎস্য জীববিজ্ঞান

করোটিক স্নায়ুর কাব্য

জন্ম থেকেই দেখছো চোখে নিচ্ছ নাকে ঘ্রাণ
বলছ কথা কথা মনের সুখে শুনছে তোমার কান।
পড়ছে তোমার চোখের পলক নড়ছে কত পেশী
মজার খাবার নিলেই মুখে স্বাদ পেয়ে হও খুশী।
কিন্তু কেন হচ্ছে এসব প্রশ্ন কি হয় মনে?
আমার কাজের কথা তুমি নাও তাহলে জেনে।
যুক্ত হয়ে ব্রেইনের সাথে তথ্য করি সার্ভ
কেউ ডাকে মোরে রোটিক স্নায়ু, কেউ ক্র্যানিয়াল নার্ভ।

আমরা যে সব জোড়া স্নায়ু মস্তিষ্ক হতে
গমন করি নানান অঙ্গে করোটি-ছিদ্র পথে।
আমাদেরই নাম করোটিক স্নায়ু, রেখো তুমি স্মরণ
সেনসরি বা মিশ্র, মোটর, একেক জনার ধরণ।
আন-এমনিয়টায় জোড়া দশেক, এমনিয়টায় বার
সংখ্যার অমিল একটু পেলেও সন্দেহটা ছাড়।
উৎপত্তি আর কাজ বিস্তারে সকল ভার্টিব্রেটে
একই রকম পাবে মোদের দেখ যদি ঘেঁটে।

এবার চল করি বর্ণনা আমাদের পরিচয়
রাখলে মনে মোদের কথা থাকবে না সংশয়।
নার্ভাস সিস্টেম পড়তে গিয়ে অনেকে হয় নার্ভাস
নিজের কথাই ছন্দে-ছন্দে বলব তাদের আজ।

অলফ্যাক্টরী লোব হতে উৎপত্তি আমার
নাসিকার মিউকাস মেমব্রেনে হই যে বিস্তার।
ঘ্রাণ উদ্দীপনা বহন করি ধরণ সেনসরি
প্রথম করোটিক স্নায়ু আমি নামটা অলফ্যাক্টরী।

ডায়েনসেফালনের যেথায় অপটিক থ্যালামাই
আমার উৎপত্তি কিন্তু সেই খানেতে ভাই।
রেটিনা হতে আলোর উদ্দীপনা বহন করি
মস্তিষ্কে নিয়ে যাই ধরণটা সেনসরি।
দর্শন কাজে আমার নাকি কোন জুড়ি নাই
দ্বিতীয় করোটিক স্নায়ু আমি, অপটিক নার্ভ ভাই।

মেজেনসেফালনের নীচের প্রতি পার্শ্ব হতে
সৃষ্টি হয়ে গেছি আমি চোখের চার পেশীতে।
চক্ষু গোলক, চোখের পাতা, আর চক্ষু লেন্স
চালনাতে রয়েছে যে আমার-ই নির্দেশ।
ধরণ আমার রেখো মনে, “সেনসরি নয়”! “মোটর”
তিন নম্বর করোটিক স্নায়ু, আমি অকুলোমোটর।

মেজেনসেফালনের পৃষ্ঠের প্রতি পার্শ্ব দিয়া
উৎপন্ন হয়ে আমি গিয়াছি চলিয়া।
সুপেরিয়র অবলিক নামক পঞ্চম চক্ষু-পেশী
নিয়ন্ত্রণ করি আমি হয়ে হাসি-খুশি।
অক্ষি গোলক সঞ্চালন করি, সিরিয়াল আমার চার
মোটর ধরণ স্নায়ু আমি, নামটি ট্রকলিয়ার।

জন্ম আমার মেডুলা অবলংগাটার অগ্রভাগে
মিশ্র আমার ধরণ তুমি জানতে কি তা আগে?
অপথালমিক, ম্যাক্সিলারি, ম্যান্ডিবুলার নামে
আমার তিনটি শাখা আছে, জানে সবাই জানে।
চোখের পাতা, নাকের পর্দা, চোয়ালের ত্বক-পেশী
বিস্তৃতিটা আমার কিন্তু অনেকখানি বেশী।
এখান থেকেই অনুভূতি বহন করে আমি
নিয়ে যাই মস্তিস্কে তা হোক না দিবা-যামী।
চোয়াল এবং জিহবা নাড়ান, আমার বিশেষ কাজ
ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু আমি, নম্বরটা পাঁচ।

যেখানেতে মেডুলা অবলংগাটার অঙ্কীয় দেশ
সেখানেতে জন্ম আমার নামটা এবডুসেন্স।
ছয় নম্বর চক্ষু পেশী, এক্সটারনাল রেকটাস
বিস্তার আমার হয়েছে সেথায় করি তথায় বাস।
অক্ষি গোলক সঞ্চালন প্রধান কর্ম মোর
ষষ্ঠ করোটিক স্নায়ু আমি, ধরণটা মোটর।

মেডুলা অবলংগাটার দুপাশ হতে জন্ম মোর
গ্যাসেরিয়ন গ্যাংলিয়নে মিলে বাঁধি ডোর।
ট্রাইজেমিনালের সাথে একই ছিদ্র পথ দিয়া
বের হয়ে দুটি শাখায় গিয়াছি চলিয়া।
প্যালাটাইন, হায়োম্যান্ডিবুলার এদের নাম
পড়তে গিয়ে রাখলে মনে, হবে না বদনাম।
কর্ণপটহ, নিম্ন চোয়াল আরও মুখবিবর
বিচরণের ক্ষেত্র আমার জান কি খবর?
স্বাদ, চর্বণ, ঘাড় সঞ্চালন, ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন
এসব কিছুই কর্ম আমার বলেন গুণীজন।
মিশ্র ধরণ স্নায়ু আমি রাখিও খেয়াল
সাত নম্বর করোটিক স্নায়ু আমি ফেসিয়াল।

ফেসিয়াল স্নায়ুর উৎপত্তি যেইখানেতে ভাই
সেইখানেতে জন্ম আমার মনে রাখা চাই।
ফেসিয়ালের পেছনেতে অবস্থান তাই করি
খেয়াল শুধু রেখো আমার ধরণটা সেনসরি।
অন্তঃকর্ণে বিস্তার আমার শ্রবণ কর্ম করি
আট নম্বর করোটিক স্নায়ু, আমি অডিটরি।

আমারও উৎপত্তি ভাইরে ফেসিয়ালের মত
অবস্থান তাই অডিটরির পেছনে রক্ষিত।
ভেগাস গ্যাংলিয়ন নামক স্নায়ু গ্রন্থির সাথে
যুক্ত হয়ে দুটি শাখায় বিভক্ত হই পথে।
মুখ বিবর, গলবিল আর হায়োম্যাণ্ডিবুলারে
বিস্তৃত হই মিশ্র স্নায়ুর প্রকৃতিটা ধরে।
স্বাদ গ্রহণ আর জিহবা নাড়ার কাজে রাখি খেয়াল
নয় নম্বর স্নায়ু আমি, গ্লোসোফ্যারিঞ্জিয়াল।

মেডুলা অবলংগাটায় জন্ম শোন আমি বলি
করোটির এক্স-অক্সিপিটাল ছিদ্র পথে চলি।
গলবিলে সূক্ষ্ণ শাখা সরবরাহ করে
চারটি শাখায় কর্ম করি সারা জীবন ধরে।
প্রথম শাখা ল্যারিঞ্জিয়াল দ্বিতীয় কার্ডিয়াক
স্বরযন্ত্রে, হৃদযন্ত্রে, বিস্তৃতি মোর থাক।
তৃতীয়টা পালমোনারি, চতুর্থ গ্যাষ্ট্রিক
ফুসফুস আর পাকস’লীতে বিচরণ করি ঠিক।
সংকোচন-প্রসারণ করে, করে সিক্রিশণ
বিস্তৃতির এই অঙ্গগুলি করি নিয়ন্ত্রণ।
সর্ববৃহৎ স্নায়ু আমি, মিশ্র আমার কাজ
দশ নম্বর করোটিক স্নায়ু আমি যে ভেগাস।

মেডুলা অবলংগাটা এবং স্পাইনাল কার্ডের পাশ
মোটর হিসেবে জন্ম সেথায়, অন্য কোথাও বাস।
গ্রীবা দেশের পেশী কিংবা ল্যারিংস, ভোকাল কর্ড
বিস্তার আমার এইখানেতেই সেথায় আমি লর্ড।
ল্যারিংস, ফ্যারিংস, গ্রীবার পেশী, সঞ্চালন করি
একাদশ করোটিক স্নায়ু আমি, স্পাইনাল এক্সোসরি।

স্পাইনাল এক্সেসরির মত আমার একই কথা
মেডুলার অংকীয় দেশে জীবন আমার গাঁথা।
জিহবা ও গ্রীবার পেশী বিস্তৃতির সীমা
সঞ্চালনও করি এদের এটাই যে মহিমা।
হাইপোগ্লোসাল নামটি আমার, মোটর বলেই ধরো
সর্বশেষ করোটিক স্নায়ু, নম্বর আমার বারো।

শেষ হলো মোর জীবন কথা রেখো শুধু মনে
আমার সকল কথা তুমি দেখবে গেছো জেনে।
করোটিক স্নায়ু পড়তে আর হবে না নার্ভাস
পরীক্ষাতেও নম্বর তুমি পাবে যে সাব্বাস!


Visited 1,986 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question?

Visitors' Opinion

সহযোগী অধ্যাপক, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ইমেইল: [email protected] বিস্তারিত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.